গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ জুন, ২০১২

এত আলো প্রয়োজন নেই


এত আলো প্রয়োজন নেই, আঁধার উপাদেয়
ঢেকে দাও নক্ষত্রের শরীর
যদি লুফে নিতে হয়
হেমলক অথবা হলাহল সেও রাজি
থামতে বলো পৃথিবীকে

উড়ে যাচ্ছে স্বপ্নের পৃষ্ঠারা, তীব্র বাসনার
অতিপৃক্ত অভিমানের কষ
নীরব হচ্ছে হৃদয় ক্রমশঃ
আর কোন শব্দ হবে না

ক্রমশঃ প্রার্থীরা অগণিত
রক্তের পিপাসা বাড়ে, নাব্যতা নেই
থেকে থেকে হেরে যায় নদী
তাকে তুলে আনো বারান্দায়
রোদ ঝরে যায়, মরে যায়
আর কত দেরী হবে তোমার

এদিকে
সীমাহীন বাণিজ্যে কেবলই অপহরণ
কতটা দুর্লভ আজ আকাশ
কতটা দুর্লভ আজ আকাশ
ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে রঙ

কখনও কখনও মনে হয়
প্রযুক্তিকে, সভ্যতাকে না-করে দিই
না-করে দিই, আর পারা যায় না
মাঝে মাঝে ভাবি ছেড়ে যাবো দাবার ছক
বুদ্ধিবৃত্তিকে আজ বড়ো অসহ্য লাগে
বেমানান লাগে,
আর কত দেরী হবে তোমার
দুলে দুলে কেঁপে উঠছে অপেক্ষা
দুলে দুলে কেঁপে উঠছে অপেক্ষা

অদ্ভুত
আজও পৃথিবীকে উল্টো দেখতে ইচ্ছে করে


ঘুড়ি উড়ে যায়

ছেঁড়া মনে চেয়ে থাকা সাদাটে আকাশ
ধুলো রোদে পেকে ওঠা হেঁয়ালী বাতাস
ঘুড়ি ওড়ে না, ঘুড়ি ওড়ে না
ঘুড়ি ওড়ে না কখনও ঘুড়ি ওড়ে না
অজস্র তার, তারের মিছিল
আকাশকে টুকরো টুকরো করে যায়
ছেঁড়া মনে শুয়ে থাকা টুকরো আকাশ
ধুলো রোদে বেঁকে যাওয়া ছলনা বাতাস
একা করেনা, একা হতে দেয়না
একা করেনা কখনও একা হতে দেয়না

বিদ্যুত আসে যায় আঁধারকে টানতে
শহরটা পাল্টায় হঠাৎ অজান্তে
আলো আসে আলো যায় বাঁধা পড়ে জানলায়
রঙমাখা মুখগুলো সংলাপ আওড়ায়
দ্বিধাহীন মৌমাছি শপথের গান ভুলে
এলোমেলো এলোমেলো বাকহীন কোলাহলে
নাটকের হাতে হাত, সংসার টিকে থাক
মানুষ বাড়তে থাক, ভালোবাসা লেখা থাক

নাটকের হাতে হাত,
সংসার টিকে থাক
মানুষ বাড়তে থাক,
ভালোবাসা লেখা থাক

ভোর হোক ধুয়ে যাক আঁধার কালো
আলোর ডানায় উড়ে আসুক আলো
ঘুড়ি উড়ে যায়, ঘুড়ি উড়ে যায়
ঘুড়ি উড়ে যায়, বেঁধে রাখা যায় না
সাদাটে আকাশ
হেঁয়ালী বাতাস
পুরোটা আকাশ
প্রবলা বাতাস

একা করেনা, একা হতে দেয়না
একা করেনা কখনও একা হতে দেয়না



সরে সরে যাচ্ছে জানালা

সরে সরে যাচ্ছে জানালা
সরে সরে যাচ্ছে আকাশ আর
আমাদের চোখ যেন বুঁজে আছে একা
সরে সরে যাচ্ছে পৃথিবী
সরে সরে যাচ্ছি আমরা
এক একটা দ্বীপ যেন শুয়ে আছি একা
সরে সরে যাই হতচ্ছাড়া

সভ্যতার হাতে বাঁধা আছে আঙুল এবং সময়
প্রযুক্তির সাথে গেঁথে অনুভূতি হৃদয়
যুক্তির ষাঁড় যা যা লিখে গেছে ইতিহাস তাতেই
খিদে পাওয়া জিব শুকিয়ে ওঠে অস্তিত্ব কি নেই
সরে সরে যায় ভালবাসা

সরে সরে যায় ভালবাসা
আমাদের মিথ্যে কুয়াশা
এক একা বুক যেন ব্যবহারিক খাতা
সম্পর্কের সমাকলনে
আদর্শগত ব্যবধানে
চাহিদির বৈপরিত্য আর
প্রতারণার চাবুক
মূলধনহীন ব্যবসানীতি
অবয়বহীন প্রতিকৃতি
ন্যায়-অন্যায়ের দ্রবীভূত স্বাদ
মাথা ও মন শিখুক
সরে সরে যাচ্ছে চেতনা

সরে সরে যাচ্ছে চেতনা
যাচ্ছি কোথায় তা জানিনা
দাবার চাল ভুল হয়ে গেলে
আবেগে ভুল হয়ে গেলে
হিসেবে ভুল রয়ে গেলে
গণতন্ত্র খাটেনা

সরে সরে যাচ্ছে জানালা
সরে সরে যাচ্ছে আকাশ আর
আমাদের চোখ যেন বুঁজে আছে একা
সরে সরে যাচ্ছে পৃথিবী
সরে সরে যাচ্ছি আমরা
এক একটা দ্বীপ যেন শুয়ে আছি একা
সরে সরে যাই হতচ্ছাড়া



______অ_
০২.০২.১২

আয়রে আয়রে আয়রে দিন

আয়রে আয়রে আয়রে দিন
আয়রে আয়রে আয়
আয়রে আয়রে আয়রে দিন
আয়রে আয়রে আয়

রঙ নিয়ে আয়
প্রেম নিয়ে আয়
নিয়ে আয় ঘ্রাণ

স্বপ্ন নিয়ে আয়
ইচ্ছে নিয়ে আয়
নিয়ে আয় প্রাণ

আয়রে আয়রে আয়রে দিন
আয়রে আয়রে আয়
আয়রে আয়রে আয়রে দিন
আয়রে আয়রে আয়

রঙ ~ প্রেম ~ ঘ্রাণ


স্বপ্ন ~ ইচ্ছে ~ প্রাণ


এখন সন্ধ্যা হবে

এখন সন্ধ্যা হবে
হাজারে হাজারে পা
পৃথিবীর পথে
আলাদা আলাদা প্রাণ
ভীড় করে শয়তান

এখন এখন


অচেনা পৃথিবীতে
সুখেরা প্রতিরাতে
কোনো বুক নেই
বুক থাকে নাতো
কোনো চোখ নেই
চোখ আঁকেনাতো (২)

এখন রাত্রি ফুরাবে
হাজারে হাজারে তারা
আলোতে হারাবে
একেলা একেলা দহন
বিস্মৃত প্রতিক্ষণ

এখন এখন

কালোভরা দরিয়ার
চেতনারা ডুবে যায়
ষড়রিপু ডাকে আয়
মহাকাল সরে যায়

কোন তেপান্তরে
স্বপ্ন ঘর করে
বৃষ্টি ভেজায়
মেঘ নেই তবু
জোছনা ভরায়
ভিজে জবুথবু

এখন এখন সন্ধ্যা হবে
হাজারে হাজারে পা
পৃথিবীর পথে


এখন এখন

রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১২

নস্টালজিয়া বেঁচে থাক





বুক থেকে বুকে ইতিহাস বাঁচে কালের শরীর বেয়ে
ভালোবাসাবাসি যুদ্ধ-বিবাদ চেতনার পথ চেয়ে
কত দৃপ্ততা অপচয় হলো, কত গুপ্ততা ইতিহাস হল
কত কবিতারা ধুয়ে-মুছে গেছে, কত দীপাবলী বৃথা নিভে গেছে
মেঠোপথ থেকে রাজপথে -
নস্টালজিয়া শুয়ে থাক, মিলেমিশে থাক ধুলো আর লাল
নস্টালজিয়া পড়ে থাক, থাক পড়ে থাক থাক চিরকাল
নস্টালজিয়া শুয়ে থাক, মিলেমিশে থাক ধুলো আর লাল

ধীরে ধীরে ঘাম বুকপকেটে চিঠির ভাঁজকে করে অসহায়
দাঁড়ি-কমারাই স্বজনের মতো কোমল চরণে তফাতে দাঁড়ায়
নস্টালজিয়া মুছে যাক, শিশির-সঙ্গী দুপুর হাওয়ায়
নস্টালজিয়া মরে যাক, মরে পড়ে থাক ছাউনী ছায়ায়
নস্টালজিয়া মুছে যাক, শিশির-সঙ্গী দুপুর হাওয়ায়

সভ্যতা তার দাঁতাল হাসিতে তুমুল উঁচুতে
আকাশকে তুলে খুবলে খুবলে আছড়ে নিংড়ে
এলোমেলো আর এলোমেলো ক'রে
ভগবানগুলো মানুষকে ধরে শুষে শুষে পিষে
ক্রমশঃ বিশাল এবং বিশাল, ক্রমশঃ অসীম

ধীরে ধীরে ধীরে রক্তবর্ষা ছিঁড়ে-খুঁড়ে খেলো জন্মতারিখ
দমে গেলো যত মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়াবার স্পর্ধা সঠিক
নস্টালজিয়া টিকে থাক শহরের শব জমানো রোদে
নস্টালজিয়া ভেসে থাক বুড়িগঙ্গার সাথে
নস্টালজিয়া টিকে থাক শহরের শব জমানো রোদে
নস্টালজিয়া উড়ে যাক, উড়ে উড়ে যাক, উড়ে উড়ে যাক

নস্টালজিয়া বেঁচে থাক...

রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

একা পাখি এবং বর্ষা


কোন এক হিমকুয়াশার দেশ থেকে
এসেছিল পাখি এক, একা
সবুজ পাতার দেশে
বর্ষার উল্লাসে সে ভিজে যায়
বর্ষার উচ্ছ্বাসে সে ডুবে গেল
বর্ষার সাথে তার প্রেম হয়ে যায়
কোন এক হিমকুয়াশার দেশ থেকে
এসেছিল পাখি এক, একা

বর্ষা বর্ষা
একাপাখি বর্ষা
একাপাখি একাপাখি
বর্ষা বর্ষা
একাপাখি একাপাখি একাপাখি
একাপাখি একাপাখি বর্ষার ছিলো অপেক্ষায়

বর্ষা কিন্তু আর আসেনি
বর্ষা কিন্তু আর আসেনি
একাপাখি বর্ষার অপেক্ষায়
থাকতে থাকতে
থাকতে থাকতে
শেষ পালকটা মিশে যায় বনতলে

সেইদিন সেইদিন
আকাশ ভেঙে আবার বর্ষা এলো
সেইদিন সেইদিন
আকাশ ভেঙে আবার বর্ষা এলো

খোঁজ নিয়ে জানা যায়
আরো এক হিমকুয়াশার দেশ থেকে
এসে গেছে পাখি এক, একা
সবুজ পাতার দেশে
বর্ষার উল্লাসে সে ভিজে যাবে
বর্ষার উচ্ছ্বাসে সে ডুবে যাবে
বর্ষার সাথে তার প্রেম হয়ে যাবে

এভাবেই হিমকুয়াশার দেশ থেকে
এসে যাবে পাখি সব একা

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

কগহুইল


সবা-র___স-বার
কথা ছিল___ক-থা ছি-ল
ছিল নাম
ব্যথা ছিল
খাতা ছিল-
ছিল খাম
সবা-র
খাঁজকাটা শিরোনাম
খাঁজকাটা কগহুইল কগহুইল কগহুইল

ঘামঘর ধুলোবাড়ি
মরচের বাহাদুরী
ইচ্ছের বাঁকাঘোড়া
ভেসে যায় মনম-রা- (২)

এবা-র___এ-বার
এলো চুলে___এ-লো চু-লে
ধুলো আজ
ভেদভুলে
বেড়াজালে
ছায়াবাস
খাঁজকাটা পরিহাস
খাঁজকাটা কগহুইল কগহুইল কগহুইল

চোরাগলি ঘুরে ঘুরে
চোরাবালি ডুবে ডুবে
হেরে গেছে ছায়াছবি
দেহবাসা ভরাডু-বি- (২)

আবা-র___আ-বার
ঘর হবে
মেলা হবে
হেরে যাবে-
ছায়াছ-বি-
লিখে রাখো
বুকে বুকে
লিখে রাখো
বুকে বুকে
খাঁজকাটা ইতিহাস
খাঁজকাটা কগহুইল কগহুইল কগহুইল



শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১০

এক জীবনে সবাই যেন অন্যমানুষ

এক জীবনে অনেকগুলো অন্যমানুষ
যে যার মত খাচ্ছে, পরছে, ছুটছে আবার করছে চুরি
যে যার মত ছুটছে মেলায়, পড়ছে ফাঁদে, যাচ্ছে হেরে
দলবেঁধে সব টেবিল ঠুকে তবলা করে
মাঝে মাঝে ঝগড়া জমে, ট্রাফিক জ্যামে, বৃষ্টি নামে
পথের ধুলো হল্লা করে, জুতোর তলায়, চায়ের স্টলে
স্টেশন জুড়ে ঘুমায় মানুষ
সেই মানুষই হাজার টাকার ওড়ায় ফানুস
দেহের দোকান যাচ্ছে জমে, পরাক্রমে
রুটির দোকান চলছে চলে,
ময়দানে আর বাসস্থানে রাজনীতি তার নখর গাড়ে
হঠাৎ দেখি মরছে মানুষ অকারণে পথে পড়ে,
অস্তিত্বের সংকট তার মেলছে ডানা সংসারে আর সহবাসে
নিজের কাছে মিথ্যে বলা, ইন্দ্রকলা, চার অক্ষরের দীর্ঘশ্বাসে

হঠাৎ দেখি কড়ে গুনে কিছু আছে উল্টো মানুষ
লিখতে বসে, আঁকতে বসে, গাইতে বসে একলা ঘরে
শিক্ষিতদের মিছিল যখন বিক্রি করে মগজখানা
এরা তখন স্বপ্ন বানায় বাজার ভুলে চিলের ডানায়
জ্ঞানপাপীদের মিটিং থেকে মানুষ রাঁধার উপায় বেরোয়
কবি তখন আলতো করে আকাশ জুড়ে ইচ্ছে উড়োয়

এক জীবনে সবাই যেন অন্যমানুষ
যে যার মত হচ্ছে বড়, ঝুলছে বাসে, পড়ছে প্রেমে
যে যার মত করছে বিয়ে, খাচ্ছে বিষ আর যাচ্ছে মরে
আজো কেন বুঝিনা ছাই এসব ভাবা বেআক্কেলে
নিজে তো সেই কেবল মানুষ
লোকজন আর ধুলোর ভীড়ে ।।

__________
২৫ | ১১ | ২০১০

বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১০

যদি ভাবো একই ভুল




কেমন হবে যদি রাত আমার হয়ে গল্প লেখে
জানলা দিয়ে দেখো বহু দূরের কোনো চাঁদ
মেঘের ভেতর সেই গল্প দ্যাখে, দ্যাখে
দ্যাখো যদি একই রাত আঁধার প'রে ডুবতে বসে
স্মৃতির পাঁজর খুলে হাতড়ে খুঁজো সেই হাত
ঝাপসা আদর এক রঙ বসেছে, বসে
যদি ভাবো একই ভুল ‍-

ভাবছে ভাবেনা যারা ভাবুক দলে চলে
টুকরো জীবন দলে চাইছে জীবন আরও
কাগজে কলমে তবু বক্তৃতা শোভা পায়
শোভা পায় শোভা পায় মানবতা ছেড়ে যায়

ঝরছে ঝরে ধুলো ঝরলনা তবু সুখ
সবুজ সবুজ তবু সবুজ পাতার ছবি
শহর শহর শুধু শহর দেখল সবই
মানুষ মানুষ সব সভ্য মানুষ

যদি ভাবো একই ভুল খাতা জুড়ে পদ্য করুক
ভুল ভেবেছ তুমি মানুষ বড়ই অদ্ভুত
জানেনা জানেনা তবু জানার ভানেই জ্বলে ধূপ ।।

শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০১০

দেখেছি জল কেবল হাওয়ায়

সকাল থেকে যতবারই আকাশ দেখেছি
আকাশ দেখি বলে ভিজে গেছি
বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল,
বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি
দেখেছি জল কেবল হাওয়ায়
ভেজা বারান্দার গোপন মায়ায়
বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল,
বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি

ভিজতে ছাতা হাতে ভিজছে মানুষ
ভিজতে না চাইলেও ভিজতে হবে
শুকনো দেহের ঘরে বৃষ্টি হবে
কেউ দেখেনি কার দরোজায়
কে যে এসে ফিরে যে যায়
দেখা হবে ভেবে ভেবে
চলে যাবে তবু রাত পোহালে
বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল,
বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি কেবল, বৃষ্টি হবে
জানলা খুলে রেখো খাতা ভিজুক
স্নানের ঘোরে সব শব্দ নাচুক
একলা রবে সারা বিকেল
এও কি হয়, এও কি হয়, কী যে হবে
কার দরোজায় বৃষ্টি এসে হাত বোলাবে

দেখেছি জল কেবল হাওয়ায়
ভেজা বারান্দার গোপন মায়ায়

সেলফোনে আর চার্জ দেবোনা

কমছে আলো, ভাবছিনা
সাদা চিঠি পড়ে আছে
দেখেও তা দেখছিনা
প্রাপকের ঘর শূন্য বলে
চিঠি কোথাও যাবে না

যাচ্ছে কোথায় একটি দিন
কান্না চেপে ভ্যাপসা রোদে
খবর রান্না হচ্ছেনা
শব্দগুলো যাচ্ছে দূরে
সঙ্গী হতে চাচ্ছেনা

এ তো সবে শুরু হল
আরো ছিল হচ্ছে হবে
নিয়ন আলো হলদে ঠিকই
হাঁটবো একা কিভাবে

কমছে আলো
কমছে কান্না
পুড়ছে চিঠি দেখছি না

পণ করেছি থাকবো একই
পাল্টাতে আর পারবোনা
ভাল্লাগেনা যা যা কিছু
ডায়রীতেও আর লিখবো না

সেলফোনে আর চার্জ দেবোনা
সেলফোনে আর চার্জ দেবোনা
সেলফোনে আর চার্জ দেবোনা

শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০১০

ভুলে যাওয়া সুখ, ভুলে ভরা রাস্তা


ভুলে যাওয়া সুখ
ভুলে ভরা রাস্তা
ভুলে থাকা মুখ
ঘুণে ধরা ব্যবসা

চেনা চেনা
আলো আশা
পথে বোনা
স্বপ্ন বাসা

এখানে ওখানে পথশিশু শুয়ে স্বপ্ন খেলছে ধুলোয়
রিক্সাওলার পায়ের পেশীটা অল্প একটু জিরোয়
ভিখিরী বুড়োটা জানেনা এখনও খাদ্য জুটবে কখন
ওদিনে বিজ্ঞাপনের ভীড়েতে বিক্রি হচ্ছে জীবন

থেমে যে যায়
রোদের রেখা
ধুলোর গায়ে
জীবন আঁকা

দিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই দ্রব্যমূল্য বাড়ে
দিনমজুরের ঘাম বৃথা যায় রাজনীতিকের ঝাড়ে
এঘর - ওঘর, শতঘর পোড়ে সভ্যতার-ই আঁচে
গার্মেন্টস ভাঙে গার্মেন্টস পোড়ে তবুও তো ওরা বাঁচে

কত ফিরিওলা এল গেল এই দিনবদলের হাটে
কত দিপালীর বুকের স্বপ্ন দারিদ্র্য এসে কাটে
সভ্য হয়েছে মানুষ কতই সভ্য হচ্ছে আরো
সব মিছে আর ভাঁওতাবাজি, সভ্যতা নয় কারো

তবুও মোরা
বেঁচে থাকি
মেঘের ফাঁকে
আকাশ দেখি

_____________
২৩ জুন ২০১০