শনিবার, ১০ জুলাই, ২০১০

অসুখ - ০৭

ভরা চাঁদ হেলতে হেলতে গায়েব
নীল-হলুদ ডোরাকাটা বাড়ির আড়ালে
বিছানায় চিত শুয়ে নিজেকে যতটা আঁকড়ে পারি
পাই পাই শুধে যাই যাবতীয় স্বপ্নদেনা
পাশে শুয়ে বেজন্মা অন্ধকার
নষ্ট নৈঃশব্দে অপরিশোধিত অস্থির প্রবঞ্চনা
রাত বেশ ছিল, অযথাই সকাল এসে যাবে
রোদে পুড়বে বারান্দা, ঘরদোড়

চোখ মেললে দূরে সভ্যতার সপ্তম তলা
বহু নীচে সামান্য মানুষ যারা আজীবন উদোম পিঠে
রোদ শুষে বুকে শূন্যতা পোষে
দ্রষ্টব্য দূষিত বৃষ্টি, কারখানা-নদী যৌথ মিথস্ক্রিয়া
টেম্পো-বাসের জট ঠেলে হেঁটে যাওয়া মানুষ
শুকনো রক্তের মত ইট দিয়ে গড়া দালান
উপরতলার বিলাসিতার দায়ভার বয়ে যায়
আজন্ম দাগ মুছে যায় ছোটলোকবৃন্দ
আর আমি আছি নিজের জন্য অপেক্ষায়
কতটা হাস্যকর, ভাবা যায় ।।

০৭ জুলাই, ২০১০

অভ্যস্ত ছিল এতকাল সমগ্র শহর

অভ্যস্ত ছিল এতকাল সমগ্র শহর
যখন প্রতিটি বারান্দায় ওড়ে তোমার সালোয়ার,
দেখতে হুবহু এক কিছু পোস্টার সাঁটা উরুতে আমার
ধুলো পথ হেঁটে হেঁটে উঠে আছে সুউচ্চ পাহাড় পিঠ বরাবর
ঘষে ঘষে মুছে ফেলা অপরূপ সব সাগর বন্দর
গায়ে জঘন্যতম পোষাক তোমার প্রতিপক্ষর
পৃথিবীর যাবতীয় শপিংমল কেননা তোমার
যেসব পিঁপড়ে হানে কামড় সবচে' বিষধর
ওরা থাকুক শুয়ে তোমার স্যান্ডউইচ জুড়ে
সময় সুযোগ বুঝে খাওয়ানো যাবে তা
সমস্ত বারান্দা হতে ছুঁড়ে ফেলা হবে তোমার সালোয়ারগুলো
সেসব কুচি কুচি'র সুবিধার্থে পোষা হবে স্বাস্থ্যবান সব ইঁদুর ।।


০৬ জুলাই ২০১০

কথনঃ ০৬ জুলাই ২০১০

রিকশা আসুক
কাকরা ডাকুক
শুদ্ধ পাগল হাসতে থাকুক
বেগুন ডিম আর কলার আড়াল এক কিশোরী অংক কষুক
পাশের ফ্লাটে রান্নাঘরে প্রেশার কুকার ডেকেই চলুক
নিধু চিঠি নাইবা পাঠাক চিঠিওলা তবুও আসুক
কড়া রোদে আমের আচার শুকিয়ে যায়
রূপোলী রং পাতিলঅলা রূপোর পাতিল করুক ফেরি
জানলাধারে হঠাৎ দেখি জুতো যাচ্ছে চুরি
বিদ্যুতঅলার সূক্ষ্ম শিস্ এ যাচ্ছে দুলে হৃষ্টপুষ্ট ইস্মাতারা
তারস্বরে শিশু কাঁদুক
ছাদের গায়ে শালিক বসুক ছায়া মেলে
শাড়িওলা শাড়ি বেচুক সুর করে টেনে টেনে
লাল পর্দার আড়াল ছিঁড়ে দু'জোড়া পা আনুভূমিক জড়িয়ে থাকে
ক্ষুদ্র বালক খাচ্ছে গালি
উটকো দু'লোক জঘন্য আর নগণ্যতে মারামারি
একটি মানুষ গীটার বাজায় চারটে কিশোর ভীড় করে খায়
হতচ্ছাড়া কোন এক বালক নখ কামড়ায়
খাতার মধ্যে শব্দ বসায় ।।